তারুণ্য মানে দুর্বার গতিতে ছুটে চলা যেখানে থাকবেনা কোন বাধা, থাকবেনা কোন নিষেধ। তাইতো, তরুণ বয়সে চাই বিপুল পরিমান টাকা এবং তারুণ্যের যত উদ্দীপনা বন্ধুদের সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়া। এই তো তারুণ্য, এই তো যৌবন। এমন কি কোন জাদুর কাঠি আছে যা দিয়ে এই বয়সের সব চাওয়া পূরণ করা যায়? ব্যবসা এমন একটি জাদুর কাঠি যা যৌবনের অধিকাংশ চাহিদা পূরণ করতে পারে। এজন্য অধিকাংশ তরুণ খুজে নেয় ব্যবসা। জীবনে বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠিক হওয়া যায়, টাকা আয় করা যায় বিভিন্নভাবে। কিন্তু অল্প সময়ে অধিক মানুষের কাছে পৌছানোর জন্য রেস্টুরেন্ট ব্যবসার বিকল্প নেই। একারনেই, তরুণ উদ্দ্যোক্তাদের মাথায় রেস্টুরেন্ট ব্যবসা প্রায়শই ঘুরপাক খায়। ব্যবসায় যে পরিমান টাকা আছে তা অন্য কোন কাজে হয়তোবা পাওয়া যায় না। এজন্য অনেকেই উচ্চশিক্ষিত হয়েও চাকরীর পেছেনে না ছুটে ব্যবসার দিকে লক্ষ্য স্থির করে। বর্তমান সময়ে লাভজনক ব্যবসাগুলোর মধ্যে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা অন্যতম। অনেকে আবার শখের বসে ব্যবসা শুরু করেন কেউবা পারিবারিকসূত্রে এই ব্যবসায় যুক্ত হন। আসল কথা হল যে যেকারনে শুরু করুক না কেন সবার লক্ষ্য একটাই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা, অধিক মুনাফা লাভ করা। ব্যবসার কথা চিন্তা করলে রেস্টুরেন্ট ব্যবসাকে বাদ দিয়ে অন্য ব্যবসার কথা চিন্তাই করা যায় না। তাছাড়া বর্তমানে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার ভাল বাজার রয়েছে এবং মানুষ শত ব্যস্ততার মধ্যে প্রিয়জনকে নিয়ে ভাল সময় কাটাতে চায়। সেক্ষেত্রে উত্তম জায়গা হিসেবেই অধিকাংশ ব্যক্তি রেস্টুরেন্টকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। মানুষের চাহিদা ও পছন্দের বিষয়টা মাথায় রেখে অনেক উদ্দ্যোক্তারা এই ব্যবসাকে তালিকার উপরেই রাখেন। কেননা এখান স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জন করার সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া, মানুষ এখন এত বেশি সৌখিন আর বাইরে সময় কাটাতে চায় যা কয়েক বছর থেকে অনেক বেশি বেড়ে গেছে। সব শ্রেনীর মানুষ তার পরিবার ও প্রিয় মানুষকে নিয়ে সময় কাটাতে চায়। এজন্য তারা রেস্টুরেন্টকে বেছে নেয় সময় কাটানো এবং খাবার উপভোগ করার জন্য। এজন্য মানুষের চাহিদার দিক বিবেচনা করে অনেকেই রেস্টুরেন্ট খুলে বসে থাকেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পরিমান কাস্টমার পান না। ভালমানের খাবার আর উন্নত ডেকরেশন হলে ব্যবসা লাভ হবে এ ধারনাটা ভুল। বরং ব্যবসায় অধিক মুনাফা আসে যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে। এজন্য ব্যবসা শুরু করার পূর্বে কিছু গুরুতবপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতে হয় যা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের চাবিকাঠি।
![]() |
১। পরিবেশ যাচাই করা
যেকোন ব্যবসা শুরু করার আগে সবচেয়ে যে বিষয়টি বেশি প্রয়োজন সেটি হল সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। আপনি যেখানে রেস্টুরেন্ট করতে চাচ্ছেন সেখানকার পরিবেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষন করুন। পরিবেশ বলতে সেখানকার ভৌগোলিক অবস্থান, কত দ্রুত আপনি ব্যবসা বিস্তার করতে পারবেন, আপনার প্রতিযোগিদের সংখ্যা, প্রতিযোগিদের ব্যবসার পরিকল্পনা, তাদের ব্যবসার ধরণ, তারা কোন বিষয়গুলো ব্যবসায় আনে নি কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়গুলো নিখুঁতভাবে খুঁজে বের করা। একটা ব্যবসার সফলতা তার ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিবেশের উপর অনেকাংশে নির্ভর করে।প্রথমে বাজার (বাজার ব্যবস্থা) নিয়ে গবেষণা করা উচিত এবং একটি উত্তম জায়গা নির্বাচন করা। একটি উত্তম জায়গা নির্বাচনের জন্য কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয় যেমন- যোগাযোগ ব্যবস্থা, কাঙ্খিত ক্রেতা, ক্রেতাদের আর্থিক অবস্থা, তাদের রুচি, চাহিদা ও সামর্থের উপরেও নির্ভর করে। সুতরাং কোন বিষয়কে নগন্য ভাবা ঠিক না।
২। অন্য ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলা
অন্য ছোটখাট ব্যবসায়ীদের সাথে ক্রেতা, ক্রেতাদের অবস্থা, তাদের ব্যবসায়ী পদ্ধতি, টার্গেটেড ক্রেতা, কাঁচামাল সম্পর্কে ধারনা নেন। প্রয়োজনে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন এবং কিভাবে এসব চ্যালেঞ্জ তারা ওভারকাম করে তা জানার চেষ্টা করেন।
৩। বাজার বিশ্লেষণ করা
আপনার ব্যবসার জন্য নির্ধারিক ক্রেতা ঠিক করুন এবং সেখানকার মানুষ বেশি কোন ধরনের খাবার পছন্দ করে, তাদের খাওয়ার ধরন যেমন তারা কি নিয়মিত রেস্টুরেন্ট খায় না মাঝে মাঝে খায় তা বিশ্লেষণ করুন। অধিকাংশ কাস্টমার যে ধরনে খাবার পছন্দ করে তা আপনার মেনুতে রাখুন। একটি স্পেশাল আইটেম রাখুন যেটি খুবই সুস্বাদু ও কাস্টমারদের কাছে প্রিয় মনে হয়।
একটি নির্দিষ্ট নিস ঠিক করুন। যেমন- চাইনিস ফুড, ইটালিয়ান পাস্তা, ফ্রেশ সীফুড এরকম বিভিন্ন নিস থাকলে তা কাস্টমারদের কনফিউসিং এ ফেলে দেয়। যেকোন এইটি আইটেম নিয়ে শুরু করুন এবং এই আইটেমকে কত সুন্দরভাবে ক্রেতাদের কাছে উপস্থাপন করা সেগুলো নিয়ে চিন্তা করুন। এজন্য নির্দিষ্ট একটি নিসের দিকে ফোকাস করুন (যেমন-চাইনিজ ফুড)। মার্কেট দখল করার জন্য একাধিক ফুড আইটেম প্রয়োজন হয় না বরং নির্দিষ্ট আইটেম দিয়ে ভোক্তাদের মন জয় করা যায়।
যেখানে ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছেন সেখানকার ভৌগোলিক অবস্থা যাচাই করুন। সেখানে ধনী, মধ্যবিত্ত না গরিব শ্রেণীর মানুষ বসবাস করে। তারা কোনটা পছন্দ করে ফাস্ট ফুড না সাধারণ খাবার। কোন ধরনের মানুষ আসার সম্ভাবনা বেশি-প্রফেশনাল, স্টুডেন্ট, ট্যুরিস্ট না বিদেশী। এক এক পেশার মানুষের চয়েস আলাদা। যারা প্রফেশনাল এবং ফ্যামিলি নিয়ে আসবে তারা অবশ্যই ফুড কোয়ালিটি বেশি গুরুত্ব দিবে। কোন ধরনের রেস্টুরেন্ট করতে চান তা অবশ্য ভাবতে হবে। বিভিন্ন ধরনের রেস্টুরেন্ট রয়েছে যেমন- ফাস্ট ফুড, মিড স্কেল রেস্টুরেন্ট, আপস্কেল রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি। ভৌগোলিক অবস্থা, পরিবেশ, মার্কেট, কাস্টমার প্রভৃতি দিক বিবেচনা করে আপনার জন্য একটি পারফেক্ট রেস্টুরেন্ট চয়েস করুন।
৪। কনসেপ্ট এনালাইসিস
ব্যবসা শুরু করার পূর্বে আপনাকে অবশ্যই একটি কনেসেপ্ট এনালাইসিস করতে হবে। অর্থাৎ, আপনার রেস্টুরেন্টের একটি সুস্পষ্ট ভিশন থাকতে হবে। আপনার রেস্টুরেন্ট কি ধরনের এবং কোন জাতীয় ফুড অফার করে তা কাস্টমারদের কাছে সুস্পষ্ট হতে হবে।
যেমন, আপনার দাদি চিকেন ফ্রাইড পছন্দ করে সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই ট্রেডিশনাল ফুড থাকতে হবে। আপনি যদি ইটালিয়ান ফুড অফার করেন তাহলে কাস্টমার থাকবে না।
লোকেশনের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেন, আপনার রেস্টুরেন্ট যদি নদী বা সাগরের পাশে হয় তাহলে সবসময় সতেজ এবং টাটকা মাছ অফার করেন।
৫। বাজেট নির্ধারন
প্রত্যেক বিজনেস শুরু করার জন্য প্রথমে স্টার্ট আপ করার জন্য কিছু মূলধন প্রয়োজন হয়। মোটামুটি কত টাকা খরচ হতে পারে তার একটি সাম্ভাব্য বাজেট তৈরি করুন। বাজেট লোকেশন, বিজনেস স্কেল, প্রোপার্ট, যন্ত্রপাতি ইত্যাদির উপর নির্ভর করে।
- আপনি প্রথমে ছোট থেকে শুরু করেন এবং রেপুটেশন বাড়ানোর জন্য কিছু মেনু সিলেক্ট করুন এবং আস্তে আস্তে আপনার ব্যবসা বর্ধিত করুন। আপনি প্রথমে কিছু সুসবাদু খাবার এবং পানীয় দিয়ে শুরু করেন।
- ফুড কোয়ালিটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসার ভিত্তি এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবসার প্রচার ও প্রসার ঘটায়। তাই সবসময় ফুড কোয়ালিটি ধরে রাখুন।
- কাস্টমারদের গড় বেতন এনলাইসিস করুন। এটি আপনার সঠিক বিজনেস প্লাস তৈরি করতে সাহায্য করবে।
- প্রথম ছয় মাস আংশিক মুনাফা নিয়ে কাস্টমারদের আকর্ষন করেন। ২ জন কাস্টমারের কাছ থেকে ৫০০ টাকা মুনাফা অর্জন আর ১০ জন মানুষের কাছ থেকে ৫০০ টাকা মুনাফা অর্জন একই কথা নয়। এই ১০ জন ব্যক্তি শুধুমাত্র খেয়ে চলে যাবে এমন কিন্তু না। এরা আপনার রেস্টুরেন্টের সুনাম অন্য ভোজন রসিকদের কাছে প্রচার করবে। অর্থাৎ বিনা টাকায় আপনি বিজ্ঞানপন দিতে পারবেন।
৬। ব্যবসার পরিকল্পনা তৈরি করা
একটা ব্যবসা সফল করতে হলে আপনাকে সুন্দর একটি ব্যবসা পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। পৃথিবীর অনেক সফল ব্যবসায়ী ও উদ্দ্যোক্তা ব্যবসা পরিকল্পনাকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। একটি বিজনেস প্লান ব্যবসার ভিত্তি। এজন্য পরিকল্পনা সুনিদিষ্ট হবে। এক্ষেত্রে নিচের পয়েন্টগুলো অনুসরন করতে পারেন।
- ব্যবসার আইডেন্টিটি বা রেস্টুরেন্ট আইডেনটিটি, ফুড আইটেম, লোকেশন, আপনার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। সব ধরনের খরচ সম্পর্কে ধারনা দেয়। লিজ, কর্মচারীদের বেতন, আসবাসপত্র, যন্ত্রপাতি প্রভৃতি খরচ।
- একটি নির্দিষ্ট মার্কেট স্ট্রাটেজি অনুসরণ করুন এবং আপনার টার্গেট কাস্টমারদের আকর্ষণ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি হাতে নেন। আপনার প্রতিযোগিদের তালিকা তৈরি করেন এবং তাদের সাথে কিভাবে মার্কেটে টিকে থাকবেন তার জন্য যথাযথ স্ট্রাটেজি ও মার্কেট ও বিজনেস পলিসি গ্রহন করেন।
- একটি কাস্টমার ফেন্ডলি মেনু তৈরি করুন। কি ধরনের স্পেশাল ফুড আপনি অফার করবেন তার তালিকা তৈরি করুন। খরচ বিবেচনা করে অবশ্যই মেনুর প্রাইস নির্ধারন করবেন।
৭। ডিজাইন
একটি রেস্টুরেন্টের আউটলুক এবং ভিতরটা অনেক বেশি আকর্ষনীয় করার জন্য সুন্দর ডিজাইন তৈরি করতে হবে। ভাল খাবারের সাথে সুন্দর ডিজাইন সমন্বয় করতে পারলে সহজে কাস্টমার ধরে রাখা যায়। তাছাড়া মানুষ একটি রেস্টুরেন্ট শুধুমাত্র খাওয়ার জন্য যায় এমন কিন্তু না, সবাই চায় এমন একটি মার্জিত ও সুন্দর পরিবেশ যেখানে কিছু সময় পার করা যায়।
৮। খোলা জায়গা রাখা
মানুষ সবসময় এমন জায়গা পছন্দ করে যেখানে পর্যাপ্ত আলো বাতাস আছে। সুতরাং রেস্টুরেন্টের জায়গা নির্ধারনের সময় এমন জায়গা নির্ধারন করা যেখানে ভোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় আলো বাতাস থাকে।
৯। ফান্ডিং
ধরে নিলাম আপনি একটি বিজনেস প্লান তৈরি করছেন। এখন আপনার প্রয়োজন হল ফান্ডিং। একটি রেস্টুরেন্ট তৈরি করার জন্য আপনার কয়েক লাখ টাকা প্রয়োজন। এখন টাকা পাবেন কোথায়-
- আপনার নিজস্ব ফান্ড থেকে শুরু করতে পারেন।
- আপনি কোন বিজনেস পার্টনার ঠিক করতে পারেন। আপনার বিজনেস প্লান তার সাথে শেয়ার করে তার কাছ থেকে ফান্ড সংগ্রহ করতে পারেন অথবা তার সাথে পার্টনারশিপ চুক্তি করতে পারেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই পার্টনারশিপ চুক্তির ডকুমেন্ট রাখবেন।
- ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারেন।
১০। ফুড সিকিউরিটি
খাবারের মান ও ধরন সবসময় বজায় রাখতে হবে। বাসি, পচা খাবার যাতে না থাকে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। ফুড কোয়ালিটি নিয়ে কাস্টমারদের সাথে বিতর্ক বাধতে পারে এমন খাবার পরিবেশন করা যাবে না। ফুড কোয়ালিটি ও রান্নার কোয়ালিটি ভাল মানের হতে হবে। এজন্য আপনি একজন ভাল মানের কুক রাখতে পারেন। কারন, রান্নার উপকরন যতই ভাল হোক না কেন রান্না সুস্বাদু না হলে কাস্টমার থাকবে না। সুতরাং এ বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।
১১। ভোক্তাদের মানসিক প্রশান্তি
বর্তমান সময়ে কাস্টমাররা খাবার রান্না ও পরিবেশ নিয়ে কিছুটা সন্দিহান থাকে। রান্না কোথায় হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাবার তৈরি হচ্ছে কিনা এ নিয়ে দ্বিধাদন্দে থাকে। তাই কাস্টমারদের কাছে আপনার রান্না ও খাবারের পরিবেশ তুলে ধরলে তারা বেশি সন্তুষ্ট হবে। এজন্য সিসি টিভি ক্যামেরা দ্বারা রেস্টুরেন্টের সার্বিক চিত্র তুলে ধরলে অধিক কাস্টমার পাওয়া যাবে।
১২। খাবার সম্পর্কে ভোক্তাদের মন্তব্য
ভাল খাবার, ভাল পরিবেশ ছাড়াও ভোক্তাদের কাছে যাওয়ার অতি গোপনীয় একটি ট্রিক হল ভোক্তাদের কাছে খাবার, পরিবেশন সম্পর্কে মন্তব্য জানতে চাওয়া। সেই সাথে যদি ভোক্তাদের কোন স্পেশাল আইটেম চয়েস থাকে তাহলে জানতে চাওয়া। এটি আপনার ব্যবসার গতি আনতে এবং ক্রেতা রাখতে সহায়তা করবে।
১৩। নিয়মিত আপডেট থাকা
খাবার, বাজার, মানুষের পছন্দ-অপছন্দ, নতুন ফুড আইটেম নিয়ে আসা প্রভৃতি সম্পর্কে সবসময় আপডেট থাকতে হবে। নিয়মিত আপডেট থাকলে ব্যবসার পরিধি বাড়ানো সম্ভব।
১৪। বিজ্ঞাপন
প্রচারে প্রসার। কথাটি অতিব সত্য। ব্যবসার প্রসার তখনি হবে যখন আপনার খাবারের গুণগত মান ভাল হবে। খাবারের মান ভাল হলে একজন ভোক্তা হবে আপনার বিজ্ঞাপন প্রসারকারী। এভাবে এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তির কাছে খাবার এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন পৌছে দেওয়া যায়। একটি কথা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা হল খাবারের মান ভাল না হলে অযথা বিজ্ঞাপনের পেছনে কাড়িকাড়ি টাকা খরচ করা বৃথা হবে। বিজ্ঞাপনের বিভিন্ন আধুনিক মাধ্যম রয়েছে, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।
১৫। পার্কিং সুবিধা
রেস্টুরেন্টে পার্কিং সুবিধা রাখতে হবে। অনেক কাস্টমার আসবে যারা গাড়ি নিয়ে আসবে তাই কাস্টমারদের জন্য পার্কিং সুবিধা প্রদান করতে হবে। ভাল পার্কিং সুবিধা থাকলে কাস্টমাররা তাদের গাড়িগুলো পার্ক করতে ফলে বিক্রি ও বেড়ে যাবে। ধরন, আপনার রেস্টুরেন্ট ভাল খাবার পরিবেশ করা হয় কিন্তু পার্কিং সুবিধা নেই, এক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি যদি গাড়ি নিয়ে আসে তাহলে আপনার রেস্টুরেন্ট খেতে পারবে না। কারন আপনার রেস্টুরেন্ট কোন পার্কিং সুবিধা নেই। সুতরাং, বর্তমান সময়ে রেস্টুরেন্ট পার্কিং সুবিধা থাকা আবশ্যক।
১৬। প্রোডাক্ট রিভিউ (রেস্টুরেন্ট না যেয়ে খাবার খাওয়া)
বর্তমান সময়ে মানুষ কোথায় খেতে যাবে সেখানে কোন ধরনের খাবার অফার করা হয় এগুলো অনলাইনে দেখে নেয়। ভাল রিভিউ পাওয়ার জন্য আপনাকে সুন্দরভাবে আপনার রেস্টুরেন্টকে উপস্থাপন করতে হবে। তাছাড়া কোন খাবারের রিভিউ যদি ভাল থাকে তাহলে অন্য কাস্টমাররা ও আকৃষ্ট হবে।
১৭। ধারাবাহিকতা ঠিক রাখা
ব্যবসার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ধারাবাহিকতা হল একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অর্থাৎ ব্যবসা কত দিন টিকে থাকবে তা অনেকাংশে ধারাবাহিকতার উপর নির্ভর করে। ব্যবসার প্রথম দিকে খাবারের মান এবং ভাল মানের সেবা দিয়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে অনেক প্র্রতিষ্ঠান ভালো পরিষেবা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই ব্যবসার গতি ধরে রাখতেই হবে। মনে রাখবেন, ক্রেতা এবং ধারাবাহিকতা এ দুটি বিষয় ব্যবসায় যেমন গতি আনে তেমনি দীর্ঘমেয়াদি সফলতা ও আসে।

Comments
Post a Comment